টংখাতা কী
টংখাতা একটি বাংলা হিসাবের অ্যাপ — দোকানের কাস্টমার ও পাইকারের বাকি, আদায় আর দিনের নগদ হিসাব ফোনেই লেখা যায়। বানিয়েছে সোহামিন টেকনোলজি।
এক কথায় টংখাতা কী
কাগজের খাতায় দোকানদার যা লেখেন — কে কত টাকা বাকি নিল, কে কত দিল, দিন শেষে ক্যাশবাক্সে কত থাকার কথা — টংখাতা সেটাই ফোনে লেখার একটা অ্যাপ। হিসাব বাংলায়, টাকার অঙ্ক বাংলা সংখ্যায়, আর প্রতিটি কাস্টমারের নিজের আলাদা খাতা।
অ্যাপটি চলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে। এটি বানিয়েছে সোহামিন টেকনোলজি।
শুরু করতে কী কী লাগে
- একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন।
- একটা ইমেইল ঠিকানা আর নিজের পছন্দমতো একটা পাসওয়ার্ড (কমপক্ষে ৬ অক্ষর)। ফোন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা SMS কিছুই লাগে না।
- অ্যাকাউন্ট খোলা আর প্রথম দোকানটি তৈরি করার সময় ইন্টারনেট লাগে — এই দুটি ধাপ নেট ছাড়া হয় না। এরপর রোজকার হিসাব লেখা নেট ছাড়াই চলে।
ধাপে ধাপে দেখতে চাইলে অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম আর দোকান চালু করার নিয়ম দেখুন।
কাস্টমার আর পাইকারের আলাদা খাতা
হোম স্ক্রিনেই আপনার সবার তালিকা থাকে। নতুন কাউকে যোগ করতে শুধু নাম দিলেই হয় — ফোন নম্বরের ঘরটায় স্পষ্ট করে লেখা আছে “ফোন নম্বর (ঐচ্ছিক)”, মানে না দিলেও চলবে। কাস্টমার আর পাইকার আলাদা করে রাখা যায়, কারণ দুজনের হিসাবের ধরনই আলাদা।
একই ফোন নম্বর আগে কারও খাতায় থাকলে অ্যাপ নিজেই থামিয়ে জিজ্ঞেস করে — “এই নম্বর আগেই আছে”, সাথে “সেটিই খুলুন” বা “তবুও নতুন যোগ করুন” বেছে নেওয়ার সুযোগ। এতে একজন মানুষের দুটো খাতা হয়ে হিসাব ভাগ হয়ে যাওয়া আটকায়।
কী কী হিসাব লেখা যায়
একজন কাস্টমারের খাতা খুললে উপরে “দ্রুত হিসাব যোগ করুন” কার্ডে তিনটি ঘর থাকে:
- “নগদ বিক্রি” — নগদে বেচলেন, বাকি বাড়ল না।
- “বকেয়া বিক্রি” — বাকিতে দিলেন, তার বাকি বাড়ল।
- “বকেয়া আদায়” — সে টাকা দিল, বাকি কমল।
পাইকারের খাতায় ঘর তিনটি হয় “বকেয়া কেনা”, “নগদ কেনা” আর “পরিশোধ”। সাথে প্রতিটি এন্ট্রিতে “বিবরণ (ঐচ্ছিক)” ঘরে কী কী মাল গেল তা লিখে রাখা যায় — যেমন এক লাইনে চাল, পরের লাইনে ডাল।
কারও খাতা না খুলেই শুধু নগদ বিক্রি টুকে রাখতে চাইলে হোমের “+” বোতামে ⚡ “ইনস্ট্যান্ট এন্ট্রি” আছে — এতে কোনো কাস্টমারের নাম লাগে না।
দিনের নগদ হিসাব আর ক্যাশবক্স
“ক্যাশবক্স” ট্যাবে দিনের নগদের ছবি এক নজরে থাকে — উপরে “বর্তমান ক্যাশ”, নিচে আজ কত নগদ ঢুকেছে আর কত বেরিয়েছে, কোন খাত থেকে কত।
দিন শেষে ক্যাশ মিলিয়ে দেখার জন্য “মিলান” বোতাম আছে: অ্যাপ দেখায় “কাউন্টারে থাকার কথা” কত, আপনি হাতে গুনে যা পেলেন তা লিখলে সে বলে দেয় মিলে গেছে, নাকি কম বা বেশি আছে। এটা আজকের দিনের জন্যই, আর এতে খাতায় কোনো এন্ট্রি বসে না — এটা শুধু মিলিয়ে দেখার হিসাব।
বিস্তারিত ক্যাশবক্স ব্যবহারের নিয়ম পাতায় আছে।
বাংলা PDF রিপোর্ট
দিনের বা মাসের নগদ হিসাব, খাতার রিপোর্ট আর একজন কাস্টমারের পুরো স্টেটমেন্ট — সবই PDF করা যায়। PDF বেরোনোর পর দুটো কাজ করা যায়: শেয়ার (হোয়াটসঅ্যাপ, imo, ড্রাইভ যেখানে খুশি) আর প্রিন্ট/সেভ।
একটা কথা আগেই জেনে রাখা ভালো — রিপোর্ট সব সময় বাংলায় তৈরি হয়। অ্যাপের ভাষা ইংরেজি করে দিলেও PDF বাংলাতেই আসবে, এটি বদলানোর কোনো সেটিং নেই। কীভাবে বানাবেন তা বাংলা PDF রিপোর্ট তৈরির নিয়ম পাতায়।
ইন্টারনেট ছাড়া কতটা চলে
হিসাব লেখার কাজটা আগে আপনার ফোনেই সেভ হয়, তারপর সুযোগমতো ক্লাউডে যায়। তাই নেট না থাকলেও বিক্রি, বাকি, আদায়, ক্যাশবক্স — সব লেখা যায়। নেট না থাকলে হোম স্ক্রিনে লেখা ওঠে “অফলাইন — পরে নিজে থেকেই সিঙ্ক হবে”, আর নেট ফিরলে অ্যাপ নিজেই পাঠিয়ে দেয়।
যেগুলোর জন্য নেট লাগবেই: অ্যাকাউন্ট খোলা ও লগইন, প্রথম দোকান তৈরি, ব্যবসা মুছে ফেলা, কাস্টমার কানেক্ট কোড তৈরি, আর অ্যাকাউন্ট ডিলিট বা ফিরিয়ে আনা।
ক্লাউড ব্যাকআপ আর নতুন ফোন
হিসাব আপনার অ্যাকাউন্টে ক্লাউডে ব্যাকআপ হয়, আর এটা ফ্রি। নতুন ফোনে অ্যাপ নামিয়ে একই ইমেইল-পাসওয়ার্ডে লগইন করলে অ্যাপ নিজে থেকেই হিসাব ফিরিয়ে আনার স্ক্রিন খুলে ফেলে।
সৎভাবে বললে দুটো সীমা আছে, জেনে রাখা ভালো:
- যে এন্ট্রিগুলো কখনো নেট পায়নি, ফোন হারিয়ে গেলে সেগুলো ফেরানো যায় না। তাই হোমে “অফলাইন — পরে নিজে থেকেই সিঙ্ক হবে” দেখলে একবার নেটে আসুন।
- কিছু জিনিস ওই ফোনেই থাকে — দিন বন্ধের রেকর্ড, তাগাদা পাঠানোর লগ, আর প্রো-র দোকানের লোগো ও কাস্টম PDF ফুটার। নতুন ফোনে লোগো আর ফুটারটা আবার বসিয়ে নিতে হবে।
পুরো ধাপ ফোন বদলালে হিসাব ফিরে পাওয়ার নিয়ম পাতায় লেখা আছে।
ফ্রিতে কী কী আছে
- যত খুশি কাস্টমার, পাইকার আর লেনদেন — এন্ট্রির কোনো মাসিক সীমা নেই।
- ক্লাউড ব্যাকআপ আর একাধিক ফোনে একই অ্যাকাউন্ট।
- পুরো লেনদেনের ইতিহাস — পুরোনো এন্ট্রি দেখতে টাকা লাগে না।
- ক্যাশবক্স, “মিলান”, “দিন বন্ধ করুন” আর দৈনিক/মাসিক নগদ হিসাবের স্ক্রিন।
- একজন কাস্টমারকে তাগাদার মেসেজ পাঠানো (হোয়াটসঅ্যাপ/imo/শেয়ার দিয়ে)।
- ডেটা এক্সপোর্ট (CSV), অ্যাপ লক, স্ক্রিনশট ব্লক আর লগইন করা ডিভাইসের তালিকা।
প্রো-তে কী যোগ হয়
- যত খুশি PDF, আর PDF-এর নিচ থেকে টংখাতার নাম সরানো যায় — বদলে নিজের দোকানের লোগো ও নিজের লেখা ফুটার বসে।
- পুরো মাসিক রিপোর্ট — ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিবরণী আর শীর্ষ কাস্টমার। (ফ্রিতে মাসিক রিপোর্ট একবার দেখা যায়।)
- “কাস্টমার র্যাংকিং” — কে বেশি কেনে, কার বাকি বেশি, কে নিয়মিত।
- “সবাইকে তাগাদা” — একসাথে সব বকেয়া কাস্টমারকে মনে করিয়ে দেওয়া।
- বিক্রির গ্রাফে ৯০ দিনের হিসাব, ব্যাকআপের সময় নিজে বেছে নেওয়া, আর একাধিক দোকান।
দামসহ পুরো তালিকা প্রো প্ল্যান পাতায়।
যা টংখাতায় নেই
না থাকা জিনিস আগেই বলে দেওয়া ভালো, যাতে নামিয়ে হতাশ না হন:
- মালের স্টক বা ইনভেন্টরি হিসাব নেই।
- লাভ-ক্ষতির হিসাব নেই — অ্যাপ কেনা দাম জানে না, তাই মুনাফা বের করে না।
- অ্যাপ নিজে থেকে SMS পাঠায় না — তাগাদার লেখাটা তৈরি করে দেয়, পাঠাতে হয় হোয়াটসঅ্যাপ, imo বা মেসেজ অ্যাপ দিয়ে।
- iPhone-এ নেই, শুধু অ্যান্ড্রয়েড।
- পুরোনো খাতা বা Excel থেকে ডেটা ইমপোর্ট করার ব্যবস্থা নেই। বের করে নেওয়া যায় (CSV), কিন্তু ঢোকানো যায় না।
আপনার তথ্য নিয়ে
হিসাব প্রথমে আপনার ফোনে জমা হয়, আর ক্লাউডে যাওয়ার সময় HTTPS/TLS দিয়ে যায়। আমাদের প্রাইভেসি পলিসিতে পরিষ্কার লেখা আছে যে দোকানের হিসাব, বিক্রি-বাকি, কাস্টমারের নাম বা ফোন নম্বর, লেনদেনের পরিমাণ — এসব কখনোই বিজ্ঞাপন, বিপণন বা অ্যানালিটিক্সের জন্য ব্যবহার বা শেয়ার করা হয় না।
অ্যাকাউন্ট মুছতে চাইলে অ্যাপেই পথ আছে — সেটিংস → “গোপনীয়তা ও আইনি” → “অ্যাকাউন্ট মুছুন”। মুছে ফেলার পর ৩০ দিনের মধ্যে একই ইমেইলে লগইন করলে সব ফিরে পাওয়া যায়; ৩০ দিন পেরোলে স্থায়ীভাবে মুছে যায়। বিস্তারিত প্রাইভেসি পলিসি আর অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা পাতায়।
শুরু করবেন কীভাবে
- Google Play থেকে টংখাতা নামান।
- “না, আমি নতুন” বেছে ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন, ইমেইলে আসা কোডটি বসান।
- দোকানের নাম দিয়ে “শুরু করুন” চাপুন।
- প্রথম কাস্টমার যোগ করে তার বাকিটা লিখে ফেলুন।
কোথাও আটকে গেলে হেল্প সেন্টার আর সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেখুন।
এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন
টংখাতা কি ফ্রি?
হ্যাঁ, দোকানের রোজকার হিসাব রাখার কাজটা ফ্রিতেই হয় — যত খুশি কাস্টমার ও লেনদেন, ক্লাউড ব্যাকআপ, একাধিক ফোনে সিঙ্ক, ক্যাশবক্স আর দিন বন্ধ সবই ফ্রি। কিছু বাড়তি সুবিধা প্রো-তে আছে, যেমন আনলিমিটেড PDF আর পুরো মাসিক রিপোর্ট।
টংখাতা কি iPhone-এ চলে?
না। টংখাতা এখন শুধু অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য।
ইন্টারনেট ছাড়া কি হিসাব লেখা যায়?
যায়। হিসাব আগে ফোনেই সেভ হয়, নেট এলে নিজে থেকেই ক্লাউডে চলে যায়। তবে অ্যাকাউন্ট খোলা, লগইন আর প্রথম দোকান তৈরির সময় নেট লাগবে।
কে বানিয়েছে টংখাতা?
সোহামিন টেকনোলজি।
হিসাব লিখতে কি কাস্টমারের ফোন নম্বর দিতেই হবে?
না। শুধু নাম দিলেই একজনের খাতা তৈরি হয়ে যায়; ফোন নম্বরের ঘরটি ঐচ্ছিক। নম্বর দিলে তাকে তাগাদার মেসেজ পাঠানো সহজ হয়, এটুকুই।
আরও পড়ুন
- টংখাতা কাদের জন্যটং, মুদি, ফার্মেসি, হার্ডওয়্যার, পাইকারি না ছোট ব্যবসা — টংখাতা কার কোন কাজে লাগে, আর কাদের জন্য এটি নয়, সেট
- সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তরটংখাতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্নের উত্তর — অ্যাপটি কী, কীভাবে ব্যবহার করবেন, তথ্য কতটা নিরাপদ আর স
- অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়মটংখাতায় ইমেইল দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা, ইমেইলে আসা কোড বসানো, কোড না এলে কী করবেন আর দ্বিতীয় ফোনে লগইন — প
- ফোন বদলালে বা হারালে হিসাব ফিরে পাওয়ার নিয়মনতুন ফোনে টংখাতার হিসাব ফিরিয়ে আনার ধাপ, ফোন বদলানোর আগে কী করে নেবেন, কী কী ফিরে আসে আর কী কী আসে না — সব খো
টংখাতা দিয়ে শুরু করুন
দোকানের বাকি-নগদ হিসাব, ক্যাশবক্স আর বাংলা রিপোর্ট — অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই।