বাকিতে বিক্রির হিসাব লেখার নিয়ম
কাস্টমারের খাতা খুলে ঠিক ঘরটায় অঙ্কটা লিখে সেভ করলেই বাকি উঠে যায়। ইন্টারনেট ছাড়াও পুরো কাজটা হয়।
বাকিতে বিক্রি লেখা
- হোম স্ক্রিনে কাস্টমারের নামে চাপ দিন। তালিকা বড় হলে উপরের 🔍 চিহ্ন দিয়ে নাম বা নম্বর লিখে খুঁজে নিন।
- তাঁর খাতার উপরে “দ্রুত হিসাব যোগ করুন” কার্ডে তিনটি ঘর আছে। মাঝেরটা — “বকেয়া বিক্রি” — এ টাকার অঙ্কটা লিখুন।
- চাইলে নিচের “বিবরণ (ঐচ্ছিক)” ঘরে কী কী মাল গেল তা লিখুন। একাধিক লাইনে লেখা যায়, যেমন এক লাইনে “১ কেজি চাল”, পরের লাইনে “১ কেজি ডাল”।
- “সেভ করুন” চাপুন।
সেভ হলে সবুজ ✓ কার্ড ভেসে উঠবে — “লেনদেনটি রেকর্ড করা হয়েছে।” — আর তাতে তিনটে লাইন দেখাবে: “পূর্বের পাবো”, কত “দিলাম”, আর “বর্তমান পাবো”। কার্ডটা চার সেকেন্ড পর নিজেই মিলিয়ে যায়।
তিনটি ঘর কোনটা কী করে
কাস্টমারের খাতায়:
| ঘর | কখন ব্যবহার করবেন | বাকির উপর প্রভাব |
|---|---|---|
| নগদ বিক্রি | নগদ টাকা নিয়ে মাল দিলেন | বাকি বাড়ে না, কমেও না |
| বকেয়া বিক্রি | বাকিতে মাল দিলেন | বাকি বাড়ে |
| বকেয়া আদায় | সে টাকা শোধ করল | বাকি কমে |
পাইকারের খাতায় ঘর তিনটি আলাদা — “বকেয়া কেনা”, “নগদ কেনা” আর “পরিশোধ”।
একসাথে একাধিক ঘর পূরণ করা যায়। যেমন কেউ ৫০০ টাকার মাল বাকিতে নিল আর পুরোনো বাকির ২০০ টাকা দিয়ে গেল — দুটো ঘরেই অঙ্ক বসিয়ে একবারে সেভ করুন। প্রতিটি আলাদা সারি হয়ে বসবে আর জানাবে “২ টি এন্ট্রি সেভ হয়েছে”। কোনো ঘর না ভরে সেভ চাপলে লাল বার্তা আসবে “অন্তত একটা ঘর পূরণ করুন”।
পাবো আর দেবো — মানে কী
খাতার উপরে বড় করে যে অঙ্কটা থাকে, তার পাশে লেখা থাকে “পাবো” বা “দেবো”:
- পাবো — এই কাস্টমারের কাছে আপনি টাকা পাবেন।
- দেবো — উল্টোটা, আপনাকে দিতে হবে। কাস্টমার বাকির চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে ফেললে (অগ্রিম) তাঁর খাতা “দেবো”-তে উল্টে যায়।
- হিসাব একদম সমান হলে লেখা থাকে “ব্যালেন্স নেই”, আর হোমের তালিকায় ওই নামের পাশে “হিসাব শেষ”।
বাকি পুরোনো হতে থাকলে খাতার উপরে দিন গোনা শুরু হয় — ৩ দিন পেরোলে রং কমলা, ৭ দিন পেরোলে লাল। কেউ বাকি শোধ করে দিলে দিন গোনা আবার শূন্য থেকে শুরু হয়, তাই পুরোনো খদ্দেরের নতুন বাকি দেখে “৬০০ দিন” উঠে যায় না।
লেনদেনের তালিকায় কী দেখবেন
নিচে “লেনদেন ইতিহাস” অংশে সবচেয়ে নতুনটা উপরে থাকে। তিনটে কলাম — “তারিখ ও বিবরণ”, “দিলাম” আর “পেলাম”। আজকের সারিতে তারিখের জায়গায় লেখা থাকে “আজ”।
সারির গায়ে ছোট চিহ্ন বসে:
- “বাকি” — এই বিক্রির টাকা এখনো ওঠেনি।
- “নগদ” — নগদে হওয়া বিক্রি বা কেনা।
- “✎ এডিটেড” — এই সারিটা পরে বদলানো হয়েছিল।
একদম নিচে স্থির একটা পট্টিতে থাকে “মোট দিলাম” আর “মোট পেলাম” (পাইকারের খাতায় “মোট পরিশোধ” আর “মোট কেনা”)।
পুরোনো লেনদেন দেখতে কোনো টাকা লাগে না — পুরো ইতিহাসই ফ্রি, যত পুরোনোই হোক।
মোট বাকি এক নজরে
সব কাস্টমার মিলিয়ে মোট কত পাবেন, সেটা দেখতে নিচের “খাতা” ট্যাবে যান। সেখানে “কাস্টমার” ভাগে বড় কার্ডে থাকে “আমি পাবো” আর “আমি দেবো” — অর্থাৎ কাস্টমারদের কাছে মোট পাওনা আর পাইকারদের কাছে মোট দেনা।
কার বাকি সবচেয়ে বেশি তা দেখতে হোমের তালিকায় উপরে “সব”-এ চাপ দিন — ছাঁকনি আর সাজানোর ঘর খুলবে, সেখান থেকে “সবচেয়ে বেশি পাওনা” বেছে নিন।
টাকার অঙ্কের সীমা
এক এন্ট্রিতে কাস্টমারের ঘরে সর্বোচ্চ ৳১,০০,০০০ আর পাইকারের ঘরে ৳১০,০০,০০০ পর্যন্ত লেখা যায়। এর বেশি টাইপ করতে গেলে অ্যাপ অঙ্কটা নিতেই দেবে না। এর চেয়ে বড় লেনদেন হলে ভাগ করে লিখুন। পয়সাসহ (দশমিকের পর দুই ঘর) লেখা যায়।
তারিখ নিয়ে একটা জরুরি কথা
প্রতিটি এন্ট্রি ঠিক যে মুহূর্তে সেভ করছেন, সেই তারিখ-সময়েই বসে। পেছনের তারিখ দেওয়ার ব্যবস্থা অ্যাপে নেই, আর পরে এডিট করেও তারিখ বদলানো যায় না। গতকালের বাকি আজ লিখলে সেটা আজকের তারিখেই উঠবে — এমন হলে “বিবরণ” ঘরে আসল তারিখটা লিখে রাখা ভালো।
বাকির তাগাদা দেওয়া
একজনকে: তাঁর খাতা খুলে উপরে ✉ চিহ্নে চাপ দিন। বাকি না থাকলে অ্যাপ জানিয়ে দেবে “এই কাস্টমারের কোনো বকেয়া নেই”। বাকি থাকলে একটা তৈরি লেখা আসবে, যাতে থাকে তাঁর নাম, বাকির অঙ্ক আর আপনার দোকানের নাম। সেটি হোয়াটসঅ্যাপ, imo বা অন্য যেকোনো অ্যাপে পাঠানো যায়, চাইলে পাঠানোর আগে লেখাটা বদলেও নেওয়া যায়। আজ একবার পাঠানো হয়ে থাকলে উপরে হলুদ রঙে মনে করিয়ে দেয় — তবু চাইলে আবার পাঠানো যায়।
সবাইকে একসাথে: “খাতা” ট্যাবে “সবাইকে তাগাদা” বোতাম আছে (শুধু মোট পাওনা থাকলে দেখায়)। এটি প্রো-র সুবিধা; ফ্রি অ্যাকাউন্টে বোতামে তালা দেখায়।
নিজের জন্য মনে করিয়ে দেওয়া: কারও বাকি জমলে অ্যাপ ৩, ৭ আর ১৫ দিন পর সকাল ১০টায় আপনার ফোনেই একটা নোটিফিকেশন দেয় — “বকেয়া রিমাইন্ডার”। এটা কাস্টমারের কাছে যায় না, আপনাকেই মনে করায়, আর এটা ফ্রি।
ভুল লিখে ফেললে
অঙ্ক বা বিবরণ পরে বদলানো যায়, আর দরকার হলে সারিটা মুছেও ফেলা যায় — নিয়মটা ভুল লেনদেন সংশোধনের পাতায় আছে। টাকা ওঠার হিসাব লেখার নিয়ম টাকা আদায়ের পাতায়।
এই বিষয়ে আরও প্রশ্ন
বাকির হিসাব লিখতে ইন্টারনেট লাগে?
লাগে না। এন্ট্রি আগে আপনার ফোনেই সেভ হয়, নেট এলে নিজে থেকেই ক্লাউডে ব্যাকআপ হয়ে যায়। নেট না থাকলে হোমে লেখা ওঠে “অফলাইন — পরে নিজে থেকেই সিঙ্ক হবে”।
গতকালের বাকি আজ লিখলে তারিখ বদলানো যাবে?
যাবে না। প্রতিটি এন্ট্রি সেভ করার সময়ের তারিখেই বসে, আর এডিট করেও তারিখ বদলানো যায় না। এমন হলে “বিবরণ” ঘরে আসল তারিখটা লিখে রাখুন।
মোট দিলাম আর মোট পেলাম বিয়োগ করলে বাকির অঙ্ক মিলছে না কেন?
কারণ নগদ বিক্রির সারিগুলোও “দিলাম” কলামে দেখা যায়, কিন্তু সেগুলোয় কোনো বাকি তৈরি হয় না। তাই বাকির অঙ্কটা উপরের বড় সংখ্যাটা থেকেই দেখুন।
একসাথে বাকি আর আদায় দুটোই লেখা যাবে?
যাবে। দুটো ঘরেই অঙ্ক বসিয়ে একবারে সেভ করুন — প্রতিটি আলাদা সারি হয়ে বসবে এবং অ্যাপ জানাবে কয়টি এন্ট্রি সেভ হয়েছে।
সব কাস্টমারের মোট বাকি কোথায় দেখব?
নিচের “খাতা” ট্যাবে “কাস্টমার” ভাগে — সেখানে “আমি পাবো” আর “আমি দেবো” কার্ডে মোট অঙ্ক দেখায়।
অ্যাপ কি কাস্টমারকে নিজে থেকে SMS পাঠাবে?
না। অ্যাপ তাগাদার লেখাটা তৈরি করে দেয়; সেটা হোয়াটসঅ্যাপ, imo বা মেসেজ অ্যাপ দিয়ে আপনাকেই পাঠাতে হয়।
আরও পড়ুন
- টাকা আদায়ের হিসাব রাখার নিয়মকাস্টমার বাকির টাকা দিলে টংখাতায় কীভাবে লিখবেন, আংশিক পরিশোধ, বাকির চেয়ে বেশি টাকা দিলে কী হয় আর বাকি কত রই
- কাস্টমার ও পাইকার যোগ করার নিয়মটংখাতায় নতুন কাস্টমার বা পাইকার যোগ করা, একই নম্বর আগে থাকলে কী হয়, একজনের একাধিক ফোন নম্বর রাখা আর পরে খুঁজ
- ভুল লেনদেন সংশোধন বা মুছে ফেলার নিয়মটংখাতায় ভুল লেনদেন এডিট বা ডিলিট করার ধাপ, এডিট ইতিহাসে কী কী জমা থাকে, আর দিন বন্ধ করার পর ক্যাশবক্সের কোন এ
- সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তরটংখাতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্নের উত্তর — অ্যাপটি কী, কীভাবে ব্যবহার করবেন, তথ্য কতটা নিরাপদ আর স
টংখাতা দিয়ে শুরু করুন
দোকানের বাকি-নগদ হিসাব, ক্যাশবক্স আর বাংলা রিপোর্ট — অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই।